Site icon অবিশ্বাস

বগুড়ায় বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করানোর পর পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা

বগুড়ায় স্ত্রীকে শায়েস্তা করতে বন্ধুকে দিয়ে ধর্ষণ ও নারকীয় ভাবে মারপিট করে শরীরে দাহ্য পদার্থ দিয়ে অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ উঠেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার শহরের চকলোকমান এলাকার জনৈক বাবুর বাড়ির ভাড়াটে রফিকুল এর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত গৃহবধূকে (২৮) উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ(শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গৃহবধূ ও তার স্বজনরা জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে গাবতলী উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের তোজাম্মেল এর ছেলে রফিকুল ইসলামের সাথে বগুড়া শহরের চকলোকমান নিবাসী ওই নারীর বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের ৮ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি তাদের দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল। তারই জের ধরে স্ত্রীকে শায়েস্তা করতে শনিবার বেলা ১১টার দিকে স্বামী রফিকুল ইসলাম ও অজ্ঞাতনামা তার এক বন্ধু চকলোকমানের ভাড়া বাসার প্রাচীর টপকিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর রফিকুল তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের হুকুম দেয়। তারা দুইজন মিলে তার হাত বেধে ফেলে এবং মুখে ক্রসটেপ দিয়ে আটকিয়ে দেয় যাতে সে চিৎকার করতে না পারে। এরপর রফিকুলের বন্ধু গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর তার শরীরে ধারালো অস্ত্রদিয়ে আঘাত করে এবং চুল কেটে দেয়। পরে তার শরীরে দাহ্যপদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ(শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।

নির্যাতিত গৃহবধূর মামা আনোয়ার হোসেন জানান,তার ভাগ্নি জামাই রফিকুল এক বন্ধুকে নিয়ে এসে এই কাজটি করতে চেয়েছিল। বেশ কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগে ছিল। ভাগ্নিকে ধর্ষণ করার পরে তাকে পুড়িয়ে মারতেই শরীকে আগুন দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়,ধারালো অস্ত্র দিয়ে সারা শরীর খোচানো হয়েছে এবং কিছু চুলও কেটে দেয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে রফিকুল ও তার বন্ধু পলাতক রয়েছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী শনিবার সন্ধ্যায় গৃহবধূকে মারপিট ও দাহ্য পদার্থ দিয়ে গায়ে আগুন দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেছেন বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

ইত্তেফাক

Exit mobile version