Site icon অবিশ্বাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আহমদীয়া মসজিদে হামলা, আবারও হামলার শংকা

একদল উগ্র-ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক শক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরস্থ কান্দিপাড়ায় অবস্থিত আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের মসজিদ “মসজিদ বায়তুল ওয়াহেদ”-এ হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২০ মাগরিবের নামাযের পর পর এ ঘটনা ঘটে বলে ‘আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত, বাংলাদেশ’ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় ‘কাদিয়ানীরা মাদ্রাসার ছাত্রদের পিটিয়েছে’ এমন মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে আক্রমণকারীরা লোকজনকে উত্তেজিত করে এবং আক্রমণ চালায়’।

উগ্রবাদী আক্রান্ত মসজিদের অভ্যন্তর।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বাঙালীয়ানা প্রতিবেদকের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এই মুহুর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে’।

হামলাকারীরা ইটপাটকেল ছুঁড়ে তিনতলা মসজিদের কাঁচের জানালা ভাঙচুর করে এবং লোহার গেট ভেঙ্গে মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢোকার চেষ্টা করে। এই স্বার্থান্বেষী ধর্মান্ধ উগ্রবাদীরা পার্শবর্তী বাড়িতে রাখা আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের ঢাকা মেট্রো-চ-১৬-১৮৭৭ নম্বর মাইক্রোবাসটিও ভাঙচুর করে। আশেপাশের আহমদীদের বাড়িঘরেও হামলা চালায় তারা।

আহমদীয়া মুসলিম জামাতের আক্রান্ত মাইক্রোবাস।

আক্রমণের সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উগ্রবাদীরা বুধবার সকাল থেকেই শহরে মিছিল-সমাবেশ করছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে।

আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত, বাংলাদেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ‘ওরা আবারো মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে সংঘবদ্ধ আক্রমণের পরিকল্পনা করছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এরা বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ায় এখনো গুজব ছড়াচ্ছে।’

হামলায় আহত একজন।

উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওহমদীয়া সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও সম্প্রদায়ভুক্ত সাধারণ জনগোষ্ঠীর উপ সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ২২ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের আহমদ নগর এলাকায় তিন দিনব্যাপী বার্ষিক সালানা জলসার আয়োজন করে আহমদিয়া মুসলিম জামাত। এই জলসাকে কেন্দ্র করে এক সপ্তাহ ধরে ‘সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ পরিষদ’, ‘ঈমান আকিদা রক্ষা কমিটি’, ‘ইসলামী যুব সমাজ ও স্থানীয় তৌহিদি জনতা’ নামে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা সংগঠনের জমায়েত থেকে দফায় দফায় আন্দোলনের নামে প্রশাসনকে জিম্মি করে সালানা জলসা বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়।

ভাঙচুরের দৃশ্য।

এই উগ্র-ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক শক্তি ১৯৮৭ সালে এভাবে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুরনো আহমদীয়া মসজিদটি বলপূর্বক দখল করে নেয় এবং প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে এখন পর্যন্ত তারা সেটি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।

বাঙালীআনা

Exit mobile version