Site icon অবিশ্বাস

সাভারে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা, গ্রেফতার ৩

সাভারে হাজিরা বেগম টুকটুকি (২০) নামে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় মূল হোতাসহ তিন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

৫ জানুয়ারি রবিবার সকালে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে নিহত ওই গৃহবধূর মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাদেরকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য রবিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সাভার পৌর এলাকার উত্তর জামসিং মহল্লার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে জনি (২৪), শুকুর আলীর ছেলে সেলিম (২২) ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ লক্ষীবরদী মৃত ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জুয়েল (২৮)।

নিহত হাজিরা বেগম টুকটুকির গ্রামের বাড়ি বরিশালে। তিনি স্বামী মিল্লাতের সঙ্গে সাভার পৌর এলাকার বনপুকুর মহল্লায় ভাড়া থাকতেন এবং মিল্লাত সাভারের ফুটপাতে ব্যবসা করতেন।

থানা পুলিশ জানায়, গত ২৫ ডিসেম্বর গৃহবধূ টুকটুকিকে মোবাইল করে বাড়ি থেকে উত্তর জামসিং এলাকায় ডেকে নেয় জনি। পরে তার দুই সহযোগী সেলিম ও জুয়েলসহ তিন জন মিলে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর লাশটি প্রথমে জনির বাড়িতে ওয়্যারড্রবে রেখে দেয় এবং সেটি গুম করার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে। পরে ২৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে টুকটুকির লাশটি জামসিং এলাকায় ফেলে রেখে যায়।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর সকালে স্থানীয়দের খবরে সাভার পৌর এলাকার উত্তর জামসিং মহল্লার একটি নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে টুকটুকি নামে এক গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ সময় নিহতের মোবাইল ফোনে গ্রেপ্তারকৃত জনির নম্বর সেভ করা ছিল। সেই সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার তাদেরকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আর বলেন, মূল ঘাতক জনির সঙ্গে টুকটুকির প্রেমের সম্পর্ক থাকায় জনির ডাকে সে উত্তর জামসিং এলাকায় আসে। সেখানে একটি নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে জনি ও তার সহযোগীরা দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে টুকটুকিকে হত্যা করে।

দেশ রূপান্তর

Exit mobile version