টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক কোচ নারী (৪০) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

 

ধর্ষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক রেহানা পারভীন বলেন, ‘একজন নারীর সঙ্গে এমন মর্মান্তিক ও অমানবিক আচরণ আমি এর আগে কখনও দেখিনি। তার মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কামড়ের ক্ষত ও দাগ রয়েছে। তার মুখের চারটি দাঁতও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এছাড়া তার পায়ুপথ ও গোপনাঙ্গ ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এটা স্পষ্ট ধর্ষণের ঘটনা।’

১০ জুন বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের বাজাইল বড়চালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে প্রথমে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আহত ওই নারী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন।

ওই নারীর দেবর জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে একই এলাকার টেংগু সরকারের ছেলে দীনা সরকার (৩৩), নারায়ণ চন্দ্র সরকারের ছেলে মন্টু সরকার (৩০) ও ময়নাল মিয়ার ছেলে শবদুল মিয়া (২৮) দেশি চোলাই মদ পান করে তাদের বাড়িতে যায়। এরপর ওই নারীকে ঘর থেকে ডেকে বের করে পাশের একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে তিনজনে মিলে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের এক পর্যায়ে দীনা সরকার ওই নারীর মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে গুরুতর আহত করে। এছাড়াও গোপনাঙ্গ ও পায়ুপথ ছিঁড়ে ফেলে। ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে ওই তিনজন দৌড়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার দুপুরে তার বৌদিকে নিয়ে সখীপুর থানায় গেলে ওসি মামলা না নিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নাম-ঠিকানা লিখে রাখেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ধর্ষকদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।

সখীপুর থানার ওসি সাইদুল হক ভূঁইয়া জানান, ঘটনাটি শোনার পরই পুলিশ পাঠিয়েছি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। বাদীপক্ষের লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, সখীপুর থানা পুলিশকে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গণি বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও ওই নারীর খোঁজখবর নিয়ে তাকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

সমকাল

মন্তব্য করুন