কুমিল্লার বরুড়ায় প্রতিবন্ধী এক বৌদ্ধ তরুণীকে (১৭) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার লগ্নসার এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের দুই দিনেও গ্রেফতার হয়নি অভিযুক্ত ধর্ষক।

 

এরই মাঝে সালিশের নামে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে নির্যাতিতা তরুণীর বৃদ্ধ বাবার কাছ থেকে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে প্রভাবশালীরা। ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকাল পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেফতার এবং স্ট্যাম্প উদ্ধার করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া এ ঘটনায় ধর্ষক ইমাম হোসেনকে আসামি করে গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে বরুড়া থানায় মামলা হলেও সালিশের নামে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়া প্রভাবশালীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, লগ্নসার গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে ইমাম হোসেন একই গ্রামের হতদরিদ্র মা-হারা এক প্রতিবন্ধী বৌদ্ধ তরুণীকে তার বাড়িতে ঢুকে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করে। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে ইমাম হোসেন ফের একই কাজে লিপ্ত হলে নির্যাতিতার বৃদ্ধ পিতা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে ধরার চেষ্টা করলে সে পালিয়ে যায়। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং ধর্ষককে বাঁচাতে তৎপর হয়ে উঠে।

ওই বৌদ্ধ প্রতিবন্ধী তরুণীর পিতা জানান, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গত রোববার রাতে ওই এলাকার খলিলুর রহমান মুন্সি, নয়ন মিয়া, আবু তাহের, লিটন বড়ুয়াসহ কয়েকজন আমার বাড়িতে আসেন। এরপর ঘটনাটি মিটমাটের জন্য তারা সালিশ বসায়। এ সময় তারা আমাকে চল্লিশ হাজার টাকা দেবে বলে আমার কাছ থেকে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। যদিও তারা আমাকে কোনো টাকা দেয়নি। শুনেছি তারা ধর্ষক ইমাম হোসেনের কাছ থেকে মীমাংসার নামে ২ লাখ টাকা নিয়েছে। তাদের ভয়েই খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দিয়েছি। এরপর পুলিশের সহযোগিতায় থানায় মামলা হলেও এখনও আতঙ্কে আছি। তারা এখন আমাকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে।

বরুড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল বাহার জানান, তরুণীর বাবার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জেনে সোমবার রাতেই মামলা নিয়েছি, ইমাম হোসেন নামে একজনকে আসামি করা হয়েছে। বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সত্যজিৎ বড়ুয়া জানান, থানায় মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

যুগান্তর

মন্তব্য করুন