কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় মন্দিরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ১৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। কুমিল্লার ঘটনার জেরে ১৩ অক্টোবর বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়।

 

উলিপুর থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির বলেন, “হামলা-ভাংচুরের পর পুলিশ ভিডিও ফুটেজ দেখে এবং বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।”

এদিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও আইন-শৃংখলার অবনতি রোধে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার গভীর রাত থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে টহল দিচ্ছে বিজিবি, জানিয়েছেন বিজিবি ২২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জামাল হোসেন।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের চাহিদার ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। সুবেদার জামিউর দুই প্লাটুনের দায়িত্বে আছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম ফেরদৌস পুরো টিমকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
উপজেলার পশ্চিম কালুডাঙ্গা ব্রাহ্মণপাড়া দুর্গা মন্দিরের পুরোহিত জীবনকৃষ্ণ চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, “রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাত দরগাহ বাজারের দিকে থেকে জঙ্গি মিছিল নিয়ে এসে প্রায় এক হাজার মানুষ মন্দিরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। তারা প্রতিমাসহ পূজার সবকিছু ধ্বংস করে দেয়।”

হোকডাঙা ভারতপাড়া সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক কমলেন্দু রায় বলেন, “রাত বারোটার দিকে লাঠিসোটা নিয়ে একদল লোক এসে মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর চালায়। এছাড়া পাশের বাড়িতে হামলা করে তারা।”

নেফরা দুর্গা মন্দিরের সভাপতি নিপেন রায় বলেন, “রাত ১১টার দিকে পাঁচশ থেকে সাতশ লোক এসে মন্দিরের গ্রিল, টিন, প্রতিমা ও পাশের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এরপর খড়ের গাদায় আগুন লাগিয়ে দেয়।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

মন্তব্য করুন