হিন্দু সম্প্রদায়ের অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কলেজছাত্রীকে ধর্মান্তরের পর বিয়ের অভিযোগ উঠেছে শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর আশালতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১০ এপ্রিল শনিবার বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি তাকে কেন স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শনিবার বিকেলে স্থানীয়রা মানববন্ধন করে শামীম আহমেদকে গ্রেপ্তার ও ওই কলেজছাত্রীকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে।
আলোচিত প্রধান শিক্ষক শামীম আহমেদ নুরনগর হাজীপুর গ্রামের প্রয়াত হাসান আহম্মেদের ছেলে এবং নুরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য বখতিয়ার আহমেদের ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে দক্ষিণ হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা ও কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীর খোঁজ না মেলায় তার বাবা শ্যামনগর থানায় একটি জিডি করেন। এদিকে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শামীম আহমেদ ও তার সাবেক ছাত্রীর একটি ছবি লক্ষ্য করেন স্থানীয়রা। পরে খোঁজ নিয়ে উভয়ের পরিবার নিশ্চিত হয় তারা খুলনার একটি নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে গিয়ে বিয়ে করেছেন। এর আগে মেয়েটিকে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ধর্মান্তর করা হয় বলেও সংশ্নিষ্টরা নিশ্চিত হন।
ঘটনার শিকার ছাত্রীর বাবা জানান, তার মেয়ে দুই বছর আগেই নুরনগর আশালতা বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করেছে। প্রাইভেট পড়তে নিয়মিত শামীম আহমেদের বাড়ির পাশে যাতায়াতের সুযোগে তাকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে শিক্ষক ধর্মান্তর করিয়ে বিয়ে করেছেন। ২০০৪ সালের নভেম্বরে জম্ম নেওয়া মেয়েটির বয়স এখনও ১৮ হয়নি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শামীম আহমেদরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় এ মুহূর্তে তারা অসহায় বোধ করছেন।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ওসি নাজমুল হুদা জানান, মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে তার পিতা মামলা করেছেন। অভিযুক্ত শামীম আহমেদকে গ্রেপ্তারসহ মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।












