বগুড়ার ধুনটে ধর্ষণের শিকার হয়ে শিশুর জন্ম দেওয়া সেই কিশোরী মায়ের মামলায় “ধর্ষকের” বাবা ফজলু মিয়া ও নিমগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাহার আলী পাইকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ওই কিশোরী ধুনট থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ১০ মাস আগে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশি ফজলু মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান ধুনট উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের এক কিশোরীকে (১৬) ধর্ষণ করে।

এতে কিশোরীটি কান্নাকাটি করলে সে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেয়। এরপর একইভাবে বেশ কয়েকদিন তাকে ধর্ষণ করা হয় তাকে। এক পর্যায়ে কিশোরী অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঘটনায় কিশোরীর পরিবার স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মাতবরদের কাছে বিচার দাবি করেন। কিন্তু তারা বিচারের নামে কালক্ষেপণ করেন। এমনকি তাদের আইনের আশ্রয় নেবার সুযোগও দেওয়া হয়নি তাদের।

এ অবস্থায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ওই কিশোরী বাড়িতে একটি মেয়ে শিশু প্রসব করে। দ্রুত ঘটনাটি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গ্রামের লোকজন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও মেহেদী ও তার পরিবার বিষয়টি অগ্রাহ্য করে। তাই লোকলজ্জা থেকে বাঁচতে মেহেদীর বিচার ও শিশুটির পিতৃপরিচয়ের দাবিতে কিশোরী থানায় আসতে বাধ্য হয়।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা বলেন, ধর্ষণের কথা জানাজানি হলে আমরা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গ্রাম্য মাতব্বরদের কাছে বিচার দেই। কিন্তু তারা দীর্ঘদিনেও কোনো বিচার করে দিতে পারেনি। এমনকি কিছু মাতবর আমাদের ভয়ভীতিও দেখিয়েছেন।

তবে নিমগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাহার আলী পাইকার বলেন, “বাচ্চা জন্ম হওয়ার দু’দিন আগে ধর্ষণের ঘটনা জানতে পেরেছি। তাই তাদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

ইসমাইল হোসেন বলেন, “মূল আসামি মেহেদী হাসানকেও শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে।”

ঢাকা ট্রিবিউন

মন্তব্য করুন