কক্সবাজারের চকরিয়ায় একদল বখাটে কর্তৃক দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক হিন্দু স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর গুম করে ফেলার অভিযোগ করেছে পরিবার।

 

ইতিমধ্যে অপহরণের ৩৯ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো হদিস মিলছে না ওই শিক্ষার্থীর। অপহরণের পর গুম করার ঘটনায় জড়িত বখাটে তৌহিদুল ইসলামসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদেরও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

পরিবার সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই বোনকে উদ্ধারে বড় ভাই আপন সুশীল বখাটের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী সাধারণ ডায়েরি রুজু করা হয়। কিন্তু পুলিশ ওই ছাত্রীকে খুঁজে বের করাসহ ঘটনায় জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এদিকে এই ঘটনার পর ছাত্রীর বাবা স্বপন কুমার সুশীল বাদী হয়ে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বখাটে তৌহিদুল ইসলামের নাম উল্লেখসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে একটি নালিশি অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালতের বিচারক মামলা রুজু করতে থানার ওসিকে নির্দেশ দিলে তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয় গত ২৬ জুন।

এ সব কিছুর পরেও মেয়ে উদ্ধার না হওয়ায় পুরো পরিবারে নেমে এসেছে হতাশা। প্রতিনিয়ত মেয়ের খোঁজে এখানে-ওখানে ধরনা দিলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এই অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের মাঝে চলছে কান্নার রোল। মেয়ের এই পরিস্থিতিতে ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে পৌর শহরে বড় মেয়ের বাড়িতে শয্যাশায়ী গর্ভধারিণী মা সবিতা রানী সুশীল।

অপহরণের শিকার ছাত্রীর বড় ভাই আপন সুশীল অভিযোগ করেন, তার ছোট বোন পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের জিএনএ মিশনারী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। চারদিকে মুসলিমপাড়া, মাঝখানে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েকটি বসতবাড়ি নিয়ে তাদের ব্রাহ্মণপাড়া (সুশীলপাড়া)। এ কারণে তার বোন স্কুলে যাওয়ার সময় এর আগেও উত্ত্যক্ত করাসহ নানা ধরনের কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়ার নজু ইসলামের বখাটে ছেলে তৌহিদুল ইসলামসহ (২০) একদল বখাটে সন্ত্রাসী। এ নিয়ে বখাটে তৌহিদের বাবা-মা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হলেও কোনো সমাধান আসেনি।

আপন সুশীল বলেন, গত ২৮ মে সকালে বাড়ি থেকে একটু দূরের টিউবওয়েল থেকে কলসিতে করে পানি আনতে গেলে ওতপেতে থাকা বখাটে তৌহিদুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তার বোনকে মুখ চেপে জোরপূর্বক সিএনজি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর তৌহিদের বাবা, মাসহ আত্মীয়-স্বজনকে বলা হলে তারা বোনকে উদ্ধার করে দেবে মর্মে আশ্বাস দেয়। কিন্তু তারা সময়ক্ষেপণ করতে থাকায় প্রথমে থানার দ্বারস্থ হই। কিন্তু থানা পুলিশও বোনকে উদ্ধারে গড়িমসি করলে আদালতে নালিশি মামলা করেন বাবা স্বপন কুমার সুশীল। আদালতের নির্দেশে গত ২৬ জুন থানায় মামলা রেকর্ড হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতা বেশ প্রশ্নবিদ্ধ।

আপন সুশীল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বখাটে যুবকরা মুসলিম সম্প্রদায়ের হওয়ায় আমরা তাদের সঙ্গে পেরে উঠছি না। বোনকে উদ্ধারে পুলিশের তেমন তৎপরতা না থাকায় অপহরণের পর আমার বোনকে গুম করে ফেলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা হওয়ায় এখন আমরা বাড়িতেও থাকতে পারছি না বখাটেদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকিতে। এ অবস্থায় গ্রামের বাড়ি ছেড়ে চকরিয়া পৌরশহরের বোনের বাসায় উঠেছি।’

আপন সুশীল আরো বলেন, ‘মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাতামুহুরী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাসান মাহমুদ উল্টো আমাদেরকে বলেছেন, বোনের কোনো খবর পেলে তাকে জানাতে। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে আমার বোন কিভাবে উদ্ধার হবে।’

ছাত্রীর বাবা ও মামলার বাদী স্বপন কুমার সুশীল বলেন, ‘এত দিন হয়ে গেলেও আমার শিশুমেয়েকে এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে আমার স্ত্রী ব্রেনস্ট্রোক করে শয্যাশায়ী। আমার মেয়েকে উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। মামলা করায় প্রভাবশালী বখাটে-সন্ত্রাসীদের পরিবারের সদস্যদের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। ইতিমধ্যে আমার স্ত্রী-সন্তানদের পৌর শহর চিরিঙ্গায় মেয়ের বাসায় রেখে এসেছি।’

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, ‘এ ঘটনায় ইতিমধ্যে আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ভিকটিমকে উদ্ধার এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

কালের কণ্ঠ

মন্তব্য করুন