সম্প্রতি শেষ হওয়া দুর্গাপূজার মন্দির-মণ্ডপে হামলা-ভাংচুরে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বগুড়ার ধুনটে একটি কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর হয়েছে। ২৯ অক্টোবর শুক্রবার রাতে উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের সুলতানহাটা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

 

উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বগুড়া জেলা পুলিশের আয়োজনে সম্প্রীতি সমাবেশের আগের রাতে এই ঘটনাটি ঘটল।

স্থানীয়রা জানান, সুলতানহাটা গ্রামে প্রায় শত বছরের পুরোনো একটি কালী মন্দির রয়েছে। শুক্রবার রাতেও ভক্তরা সেখানে পূজা করেন।

শনিবার সকালে ভক্তরা সেখানে গিয়ে দেখেন কালী প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে। তখন স্থানীয়রা সরকারি জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন।

ধুনট থানার ওসি কৃপাসিন্ধু বালা বলেন, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে এ ঘটনা ঘটতে পারে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর সনাতন ধর্মালম্বীরা ভাঙা প্রতিমাটি বিসর্জন দিয়েছেন।

সংবাদ পেয়ে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান, বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী, ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরকত উল্লাহ, ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা ঘটনাস্থল পরিদর্শন পরিদর্শন করেছেন।
সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকার যখন মেগা প্রকল্প কিছুদিনের মধ্যে উদ্বোধন করতে যাচ্ছে তখনই একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। আমরা আমাদের সম্প্রীতি নষ্ট হতে দিব না। তবে অন্য কোনো বিষয় আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখতে হবে।”

জেলা প্রসাশক মো. জিয়াউল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। কোনো এক মহল রাষ্ট্রের ক্ষতি করতে কিংবা বিতর্কিত করতে এধরনের অপচেষ্টায় আছে।

ইউএনওকে এ বিষয়ে মূল ঘটনা উদ্ঘাটনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছ বলে তিনি জানান।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, “আজ ধুনটের সব ইউনিয়নে সম্প্রীতি সমাবেশ করেছি। ধুনটে সম্প্রীতির কোনো অভাব নেই। তার আগে এমন ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এটা অভ্যান্তরীণ একটি বিষয়ও হতে পারে। তবে এসব ঘটনায় ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

মন্তব্য করুন