সুনামগঞ্জের শাল্লার কারামুক্ত ঝুমন দাশ বললেন, “পুলিশ রাতে গ্রাম পাহারা দেয়। তবে কোনো নিরাপত্তার হুমকি অনুভব করছি না। কারামুক্তির পর পাশের মুসলমান গ্রামেও গিয়েছি। সবাই আমার সঙ্গে কথা বলেছে।”

 

৪ অক্টোবর সোমবার ভয়েস অব আমেরিকার সঙ্গে আলাপকালে ঝুমন দাশ আরও বলেন, “পুলিশ বলেছে গ্রামের বাইরে গেলে জানাতে। এমনকি নিজের জেলার বাইরে গেলেও জানাতে হবে। তাদের জানিয়ে পাশের উপজেলায় গিয়েছি। তারা সহায়তা করছেন।”

হেফাজত ইসলাম নেতা মাওলনা মামনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে লেখার ঘটনায় সুনামগঞ্জে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরির কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পুলিশ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছিল। সেই সময়ে আশপাশের তিনটি গ্রামের মানুষ ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরি করে ঝুমনের গ্রাম নোয়াগাঁওয়ে হামলা করে। ভাংচুর করে বসতবাড়ি ও মন্দিরে। পুলিশ আটক করে ঝুমনকে। ৬ মাস ১২ দিন কারাভোগের পর উচ্চ আদালত সম্প্রতি তাকে মুক্তি দেয় দেশ ছাড়া যাবে না এই শর্তে।

কারামুক্তির পর সুনামগঞ্জ শাল্লায় নিজের বাড়িতে ফিরে গেছেন। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আটকের সময় ঝুমন দাশের ফোনটি পুলিশ জব্দ করে। ঝুমন এখন তার মা এবং বোনের ফোন ব্যবহার করেন। ঝুমনের বোনের ফোনে কথা হয় ভয়েস অব আমেরিকার সঙ্গে। তিনি বলেন, “কারাগারে থাকার সময়ও আমার নামে ১১টি ফেসবুক আইডি সক্রিয় ছিল। কারা এই সব আইডি চালাতো তা বের করা প্রয়োজন।”

ঝুমন দাশ ভয়েস অব আমেরিকাকে বলেন, “আমি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করি। কোন ধর্মের বিরুদ্ধে কখনো লিখিনি কিছু। এক ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সম্প্রীতি,শান্তি ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবশ্যই লিখব।”

মানুষ তাকে কীভাবে নিচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, “কারা মুক্তির পর সাধারণ মানুষ আমাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। বাড়ির বাইরে যাচ্ছি। গতকালও আশপাশের গ্রামে ঘুরে এসেছে। পূজা প্রস্তুতি দেখেছি। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা করেছি। বাজারে গিয়ে সেলুনে চুল কেটেছি। এমনকি মুসলমান অধ্যুষিত গ্রাম ঘুরে এসেছি। সবাই কুশলাদি জানতে চেয়েছেন। কারও মধ্যে নেতিবাচক কিছু পাইনি।”

ঝুমন ১০ বছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে কাজ করেছেন। এখন নিজেই প্রসাধনী ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। কারামুক্তির পর চেষ্টা করছেন আবারও নিজের ব্যবসা ভালোভাবে শুরু করতে।

ভয়েস অব আমেরিকা

মন্তব্য করুন