যশোরের অভয়নগরে শিব ঠাকুর ও মা কালীর প্রতিমা ভাংচুরের অভিযোগে সুজন (৩৫) নামের এক বখাটেকে আটক করেছে পুলিশ। ১ নভেম্বর শুক্রবার দুপুরে উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের আন্ধা গ্রামের ছোট আন্ধা কালীতলা মন্দিরে ভাংচুরের ঘটনায় তাকে আটক করা হয়েছে। সুজন একই ইউনিয়নের চলিশিয়া গ্রামের গফুর মোল্যার ছেলে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ১ নভেম্বর শুক্রবার আনুমানিক বেলা ১২ টার দিকে সুজন নামের এক বখাটে যুবক ওই মন্দির চত্বরের পূজা মণ্ডপে গিয়ে মাইকে চলা গান বন্ধ করতে বলেন। মাইক অপারেটর গান বন্ধ না করলে তিনি একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে প্রথমে মাইক এবং পরে শিব ঠাকুর ও মা কালীর প্রতিমা ভাংচুর করে। এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
মন্দির কমিটির নেতা রনজিৎ বলেন, শুক্রবার রাতে প্রতিমা দুইটি বিসর্জন দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। ভংচুরের খবর পেয়ে যশোর জেলা পুলিশের ‘খ’ সার্কেলের এএসপি জামাল আল নাসের ও অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় গ্রামবাসী ভাংচুরকারী বখাটে সুজনকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করলে ওসি তাজুল ইসলাম চলিশিয়া গ্রামের মোল্যাপাড়া থেকে তাকে আটক করে মন্দির চত্বরে নিয়ে আসেন। উপস্থিত সকলের সামনে পূজা মন্ডপে  মাইক ও দুইটি প্রতিমা ভাংচুরের কথা স্বীকার করে সুজন বলেন, জুম্মার নামাজের কারণে মাইক বন্ধ করতে গিয়েছিলাম। খারাপ আচরণ করায় মাইক ভাংচুর করি। তবে প্রতিমা দুইটি ভাংচুর না করে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছেলাম।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও মন্দির কমিটির অভিযোগের ভিত্তিতে ভাংচুরের সাথে জড়িত সুজন নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্র মামলা দায়ের করা হবে।
এএসপি জামাল আল নাসের বলেন, প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা দু:খজনক। আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার সাথে জড়িত এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ সাম্প্রদায়িক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুশিয়ারি প্রদান করেন।

সূত্র

মন্তব্য করুন