গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার ঝাজর এলাকায় বাড়িওয়ালা কর্তৃক ভাড়াটিয়ার ১৩ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ধর্ষক বাড়িওয়ালা আমজাদ হোসেনকে (৩৮) ২৬ জুন বুধবার গ্রেফতার করেছে। ধর্ষণের শিকার কিশোরী ২১ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

মামলার বাদী মেয়েটির মা জানান, স্বামী অসুস্থ থাকায় তিনি মুদি দোকান দিয়ে সংসার চালাতেন। স্বামী, তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে আসামী আমজাদের বাড়িতে চার বছর ধরে বসবাস করছেন তারা।

তিনি বাড়িটির তত্ত্ববধায়ত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। বাড়িওয়ালাকে তিনি ভাই বলে সম্বোধন করতেন এবং তার সন্তানরা মামা বলে ডাকতো। বাড়িটি দেখা-শুনা করার বিনিময়ে তাকে দুটি রুমের মধ্যে একটি রুমের ভাড়া দিতে হতো না।

প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস আগে জরুরি কাজে তিনি গ্রামের বাড়িতে যান। এই সুযোগে আমজাদ হোসেন মেয়েটিকে বাসায় একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। ফলে মেয়েটি প্রাণ ভয়ে ঘটনাটি কাউকে জানায়নি।

ইতোমধ্যে আমজাদ হোসেন সুযোগমত মেয়েটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আরো কয়েকবার ধর্ষণ করে। সম্প্রতি মেয়েটির স্বাস্থ্যগত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলে তার মা স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায়।

গত ২৯ মে মেডিকেল পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারে, মেয়েটি ২১ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। এর পর জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি ঘটনার বর্ণনা দেয়। মেয়েটির মা বর্ণনা শুনে ধর্ষককে জিজ্ঞেস করলে গর্ভপাত ঘটনারোর জন্য তাদেরকে চাপ দেয়া হয় এবং ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেয়া হয়।

এতে রাজি না হওয়ায় ধর্ষক আমজাদ, তার ভাই আতাবুর রহমান ও ভাতিজা আরিফ বাদিনীর পরিবারকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং কাউকে জানালে বা কোথাও বিচারপ্রার্থী হলে ধর্ষিতাকে গুম ও তাদের পরিবারকে অত্র এলাকা থেকে বিতাড়নের হুমকি দেয়া হয়। অবশেষে তিনি বুধবার জিএমপির গাছা থানায় মামলা দিলে পুলিশ ধর্ষক আমজাদকে গ্রেফতার করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমজাদ ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। ধর্ষক আমজাদ তিন সন্তানের জনক।

বাংলাদেশ টুডে

মন্তব্য করুন