ঢাকার আফতাবনগরে পুলিশের সঙ্গে কয়েকজন দুষ্কৃতকারীর ‘এনকাউন্টারে’ দুজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন মাদক ব্যবসায়ী বলে জানায় গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ডিবি সূত্রে এ খবর জানা যায়।

ডিবি উত্তরের উপকমিশনার মশিউর রহমান জানান, ‘এনকাউন্টারের’ সময় দুজন দুষ্কৃতকারী আহত হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। তাঁরা হলেন টারজান মনির ও শাহ আলী। তাঁদের একজনের বয়স ৩০ ও একজনের ৩৫ বছর। তাঁদের শরীরে একাধিক গুলির আঘাত রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য দুজনের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

ডিবি উত্তরের কমিশনার মশিউর রহমান আরও জানান, ১৯ মার্চ ঢাকার মেরুল বাড্ডায় জুলহাস নামের এক চালককে হত্যা করা হয়। এতে জড়িত সন্দেহে সাজু নামের এক ব্যক্তিকে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ডিবি গ্রেপ্তার করে। ডিবির ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে সাজু জানান, তিনি এবং শাহ আলী এক লাখ টাকার বিনিময়ে জুলহাসকে হত্যা করেন। এই টাকা দিয়েছিল টারজান মনির নামের এক মাদক ব্যবসায়ী। টারজান মনির মেরুল বাড্ডা এলাকায় গাঁজার স্পট নিয়ন্ত্রণ করতেন। তিনি সপ্তাহে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করতেন। সাজুর কাছ থেকে জানা যায়, সপ্তাহে বুধ, শুক্র ও শনিবার গাঁজার চালান মাইক্রোবাসে করে বাড্ডায় আনা হতো।

ডিবি বলছে, গতকাল রাতে এ রকম একটি চালান আসার খবর পেয়েছিল তারা। এ কারণে ডিবি পুলিশের দল ভ্যান নিয়ে বনশ্রী আফতাবনগর এলাকায় নজরদারি করে। একপর্যায়ে মধ্যরাতে গাড়ি আফতাবনগরের দিকে আসতে থাকে। ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পুলিশের পিকআপে গুলি করে। পুলিশের পিকআপ ভ্যানের গ্লাস ভেঙে যায় এবং গুলি লাগে। এ সময় ডিবি পুলিশ পাল্টা গুলি করে। একপর্যায়ে গোলাগুলি থেমে যায়। আশপাশের নির্মাণশ্রমিকসহ ডিবি পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি করেন। একপর্যায়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করেন। সেখানে দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

জীবিত অবস্থায় ছোট মনির ও শাহাদাতকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা জানান, গুলিবিদ্ধ দুজনের নাম টারজান মনির ও শাহ আলী।

ডিবির ভাষ্য, টারজান মনিরের বিরুদ্ধে ১২ থেকে ১৩টি মামলা রয়েছে। মাদক বিক্রি, হত্যা, অস্ত্র ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে এসব মামলা হয়েছে।

প্রথম আলো

 

মন্তব্য করুন