নাটোর সদর উপজেলায় এক আদিবাসী কিশোরীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৩ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগীর বাবা থানায় অভিযোগ দায়েরের পরই কিশোরী উদ্ধারে এবং জড়িত রমজান আলী(২৫) এবং তার সহযোগী শামীম হোসেনকে আটক করতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

 

এর আগে গত ১০ জানুয়ারি নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর দ্বিমূকী উচ্চ বিদ্যালয়ে বই নিতে যাওয়ার সময় তাকে অপহরণ করে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা। রমজান একই উপজেলার ইব্রাহীম পুর এলাকার ইব্রাহীম আলী ছেলে এবং শামীম হোসেন নবীন কৃষ্ণপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।

এদিকে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম এবং ভুক্তভোগীর মেয়ের বাবা জানান, গত ১০ জানুয়ারি ওই আদিবাসী মেয়েকে বিদ্যালয়ে যাবার পথে সাদা রংয়ের প্রাইভেট কারযোগে জোর করে উঠিয়ে নেয় অপহরণকারীরা। এই ঘটনায় বুধবার দুপুরে থানায় দুইজনকে আসামী করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পরপরই অভিযানে নামে থানা পুলিশ। অভিযোগ দায়ের করাকালে থানায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, আদিবাসী যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং আইইডি’র কো- অর্ডিনেটর হরেন্দ্র নাথ সিং, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ নাটোর জেলা কমিটির সভাপতি প্রদীপ লাকড়া, সাধারণ সম্পাদক এবং আইইডি’র আইপি ফেলো কালিদাস রায়, নাটোর সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামলাল তেলীপ্রমূখ।

ভুক্তভোগী মেয়ের বাবা কান্নাজড়িতকন্ঠে জানান, আমার দুঃখের কথা আর কি বলব? আমার মেয়েকে অপহরণ করে তার জীবন শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমার বুকের মানিক ধনকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এবিষয়ে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ নাটোর জেলা কমিটির সভাপতি প্রদীপ লাকড়া জানান, এই ঘটনায় আমরা মর্মামত। একটি নাবালিকা আদিবাসী মেয়েকে অপহরণ করে অপরাধীরা চরম ভুল করেছে। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এবিষয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এব্যাপারে মেয়েটির বাবা দুইজনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ দাখিল করেছে। মামলাটি অতি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের আটক করতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই অভিযুক্তদের আটক করা সম্ভব হবে।

আইপি নিউজ

মন্তব্য করুন