ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সূত্রধর পাড়ার দীপক মজুমদারের বাড়ীতে ডাকাতি ও গৃহবধূসহ দুই তরুণীকে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

নির্যাতিত পরিবারটি ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, এ ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান,  সোমবার দিবাগত রাতে (৩০ জুন) প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে কন্যা এবং ভাতিজিকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু ওইদিন রাত দুইটা-আড়াইটার দিকে তাদের নির্মাণাধীন ভবনের জানালার গ্রিল ভেঙ্গে ৫/৬ জনের মুখোশ পরিহিত একদল সশস্ত্র ডাকাত হানা দেয়। এসময় ডাকাতেরা রিনা রানী মজুমদার এবং তার মেয়ে বন্যা মজুমদার এবং ভাতিজি জোনাকি মজুমদারকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। পাশাপাশি মারধরও করে। পরে তাদের ঘরে রক্ষিত নগদ ৩ লাখ টাকা এবং ৪ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এসময় তাদের ঘরে একটি ধারালো রামদা ফেলে যায় সংঘবদ্ধ ডাকাতেরা।

বাড়ীতে পুরুষ লোক না থাকায় ওই সময় পরিবারের সদস্যরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন।

বাড়ীর গৃহবধূ রিনা রানী মজুমদার বলেন, রাত দুইটা-আড়াইটার দিকে নির্মাণাধীন ভবনের জানালার গ্রিল ভেঙ্গে এরা আমাদের বেডরুমে আসে। রুমে এসে আমাদের অনেক অত্যাচার করছে, মারধর করছে, মুখে চিপা দিয়া ধরে ঘুষি লাথি দিয়েছে। পরে আমরা চিৎকার করার পর প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে ডাকাতেরা চলে যায়।

তিনি আরো জানান, এসময় ঘরে থাকা ৩ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা তুলে এনেছিলাম। সাথে ঘরে থাকা ৪ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। এরা কোনো কথা বলেনি। তাদের কণ্ঠ আমারা চিনে ফেলবো বলে হয়তো তারা কথা বলেনি। সবাই মুখে কালো মুখোশ দিয়ে এসেছিল। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমরা হিন্দু বলে কয়েকদনি পর পরই আমাদের উপর নির্যাতন করা হয়। এ থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।

রিনা রানী মজুমদারের মেয়ে বন্যা জানায়, রাত আড়াইটার দিকে কয়েকজন মানুষ গ্রিল ভেঙ্গে রুমে আসছে। রুমে এসেই আমাদের মারধর করে টাকা পয়সা নিয়ে গেছে। আমার কানের দুল ও গলায় থাকা চেইন ছিঁড়ে নিয়ে গেছে ডাকাতেরা। আমাদের গায়ে হাত দিয়েছে। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করছি। আমরা প্রত্যেকদিন আতঙ্কের মধ্যে থাকি।

এদিকে কুমিল্লা দেবীদ্বার উপজেলা ফতেহাবাদ থেকে বেড়াতে আসা রিনা রানীর ভাতিজি সদ্য এসএসসি পাশ করা জোনকি মজুমদার বলেন, সেই ভয়ঙ্কর রাতের কথা বলতে পারবো না। তবে ওই সময় আমি খুবই আতংকিত হয়ে পড়ি। ওরা রুমে এসে প্রথমে আমাদের অনেক মারধর করে। পরে আমাদের গায়ের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। মুখে চাপ দিয়ে ধরে রাখে। পরে লুটপাট করে টাকা পয়সাসহ গহনা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা।

 

এদিকে ১ জুলাই দুপুরে গৃহবধূ রিনা মুজুমদারের ছেলে বিপ্লব মজুমদার বাদী হয়ে এলাকার ইমন মিয়াকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সেলিম উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সুলতানপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের অধীনে সূত্রপাড়াটিতে বর্তমানে অন্তত ৩০টি সংখ্যালঘু পরিবার বসবাস করছেন।

সময় নিউজ টিভি

মন্তব্য করুন