সোনারগাঁও উপজেলার গাবতলী এলাকায় ১৬ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মী পূজামণ্ডপে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। এসময় হামলাকারীরা ৫টি গাড়ি ভাংচুর করে এবং উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১০ জন নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা ও পূজামণ্ডপ কমিটির সদস্যরা জানান, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে যান নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিবের) সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা। পূজা মণ্ডপে যাওয়া গাড়ি বহরে বাধা প্রদান করেন জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি হুমায়ন কবির ও তার লোকজন। এসময় তারা পিস্তল, হকস্টিক, লোহার রডসহ দেশী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালিয়ে যুবলীগ নেতা মোখলেছুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হোসনে, নাফি মিয়া ও জাহিদ হোসেনসহ কম পক্ষে ১০ জনকে পিটিয়ে আহত করে। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সন্ত্রাসীরা ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরুর গাড়ি বহরে হামলা চালিয়ে ৪-৫ টি গাড়ি ভাংচুর করে। পরে লক্ষ্মী পূজামণ্ডপে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাংচুর করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সমর্থ হয়।

 

সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম ভূইয়া জানান, পূজা মণ্ডপে পরিদর্শনে যাওয়ার সময় গাড়ি বহরে হামলা ভাংচুর ও ছাত্রলীগ যুবলীগ নেতাকর্মীদের পিটিয়ে আহত এবং প্রতিমা ভাংচুর করার সঙ্গে জড়িতদের দলীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, প্রতিমা ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনা স্থলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা বিরু তার সমর্থকদের নিয়ে সেই পূজা মণ্ডপে যাওয়ার পথে তার প্রতিপক্ষরা হামলা করে। পরে কে বা কারা পূজা মণ্ডপ ভাংচুর করে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, তবে রাত ৯টা পর্যন্ত এ ব্যাপারে কেউ মামলা দায়ের করেনি।

উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার ভৌমিক জানান, হুমায়ন মেম্বারের নেতৃত্বে পূজা মণ্ডপে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ইত্তেফাক

মন্তব্য করুন