ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পাঁচ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া শফিউর রহমান ফারাবীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো–বরখাস্তকৃত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ, আবু সিদ্দিক সোহেল, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, আরাফাত রহমান সাজ্জাদ ওরফে শামস্। মেজর জিয়া এবং আকরাম হোসেন পলাতক রয়েছেন। অপর চার আসামি কারাগারে আছেন।

বিচারক মজিবুর রহমানের আদালত গত ৪ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করে। যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলার ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেন রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গোলাম সারোয়ার খান জাকির। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন।

ওই দিন যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় ৪ ফেব্রুয়ারি ফের যুক্তি উপস্থাপন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, অভিজিৎ রায়কে ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি অভিজিতের বাবা শিক্ষাবিদ অজয় রায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় ৩৪ জনকে সাক্ষী করা হয়।

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান ১১ এপ্রিল ছয় আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করেন। বিচারক ১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

ঢাকা ট্রিবিউন

মন্তব্য করুন